Tuesday, May 28, 2013

ছেলেটি



একটি ছেলের বুকের মাঝে লুকিয়ে ছিল অনেক না বলা কথা। সাগরপাড়ে বালুর মাঝে লিখত সে কতো কবিতা। ছিল তার অনেক কিছুই, আবার ছিল না কিছুই, অশ্রুতে থাকতো ভিজে তার চোখ। বালুর মাঝে কাটাকুটি আর পুরনো স্মৃতির মাঝে গাইত সে গান। বিশাল আকাশ শুনত সেই গান, বৃষ্টি আসতো নেমে। ছেলেটির চোখের অশ্রু আর বৃষ্টির জল মিলেমিশে করত রচনা কতো কবিতা। তবুও ফুটত না হাসি ছেলেটার মুখে।

ব্যস্ত সবার মাঝে বসে দুপুরবেলার কড়া রোদে লিখত ছেলেটি কতো কবিতা।  বালুর ক্যানভাসে ধরত তুলে সে মনের যত অভিমান। অশ্রু গড়িয়ে পড়তো বালিতে তবুও ছেলেটি গেয়ে যেত শুধু তার দুঃখ ভরা গান। ঝাউবন শুনত সেই গান আর সবার মাঝে চুপটি করে দিত ছায়া তাকে কড়া রোদের মাঝে। তবুও ফুটত না ছেলেটির মুখে হাসি। কে যেন গভীর মায়ায় ডাকতো তাকে সাগরের ওপাড় থেকে।  

তারপর হটাত একদিন ব্যস্ত আঙুল থামিয়ে ছেলেটি তাকাল সাগরের দিকে। ছোট্ট একটি নৌকা নিয়ে, জল রঙের পাল উড়িয়ে ছেলেটা করলো যাত্রা অজানা দেশে। যা ছিল, যা ছিল না, সবাই এসে সাগর পাড়ে এখন শুধু তাকে খোঁজে। বালুর মাঝে লিখে যাওয়া কবিতাগুলো এখন তারা পড়ে। আকাশ আর ঝাউবন এখনও থাকে সে তার আশায়, মনের মাঝে তাদের একটিই প্রশ্ন, “ছেলেটা কি এখন হাসে?”

শেষ কথাঃ সুমন ভাইয়ের একটি গান অবলম্বনে এটি আমার জীবনের আঁকা একটি প্রতিছবি।